ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এমডি.মুরাদ হাসানের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সৌদি প্রবাসী কাজী মহিবুল হাসানের মার্জিত ভাষায় দাঁত ভাঙ্গা জবাব।

0
298

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এমডি.মুরাদ হাসানের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সৌদি প্রবাসী কাজী মহিবুল হাসানের মার্জিত ভাষায় দাঁত ভাঙ্গা জবাব।

(কাজী মহিবুল‌ হাসানের ফেসবুক থেকে নেয়া।) আসুন‌ সবাই  লাইক কমেন্টস ও শেয়ার দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে অশ্রাব্য ভাষার হেয় করে কথা বলার প্রতিবাদ জানাই)

কাজী মাহফুজ রানা , ভেনিস ইতালি।

==================================

ডাঃ এমডি.মুরাদ হাসান,
মাননীয় প্রতিমন্ত্রী,তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
মহোদয়, আপনার দৃষ্টি আর্কষণ করছি।..
আপনার নাম খুব সুন্দর,
নিশ্চয় তেমনি আপনার রুচিবোধ এবং ব্যবহারও তা হওয়ার কথা।
আপনি উচ্চ শিক্ষিত এবং সেই সাথে ডক্টরেট ডিগ্রীও লাভ করেছেন। বেশ।
আমি একজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ান এবং অতি সাধারণ মানুষ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর পক্ষ থেকে কাঁচা ফুলের শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসা গ্রহণ করুণ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাদেশের একটুকরো অংশবিশেষ।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি সুনামধন্য অঞ্চল।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিদ্যাপীঠ হিসাবে সুপরিচিত লাভ করেছেন দেশ’টি-তে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
এই জেলা কে বাংলাদেশের সাংস্কৃতির রাজধানী বলা হয়।
জনাব,আপনি জানেন কি?

আমি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনো ভাবেই যুক্ত ন‌ই।
কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি এবং রাজনীতির নামে কুৎসা কাদা ছোড়াছুড়ি আমার একদমই পছন্দের নয়।
সুতরাং যে, কথা কখনো অস্বীকার করার মতো নয়;
তা হলো গত দুই মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, সরকার গঠন করেছেন
এবং সরকার গঠনের মাধ্যমে চমৎকারও ঘটিয়েছেন। এটা প্রমাণিত।
দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগে ঝলমলে করছে।
এ কথা আমি প্রাণ খুলে স্বীকার করছি।
এই উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বাদপড়েনি
আমার অতি প্রিয় মাতৃভূমি ব্রাহ্মণবাড়িয়াও।
তাই ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সভানেত্রী এবং বাংলাদেশ সরকারের সরকার প্রধান কে অর্থাৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
তো চলুন, এবার মূল কথায় আসা যাক..!

এমপি মহোদয়, সম্প্রতি আপনি গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জাতিকে নিয়ে যে, কুৎসিত, আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন,
স্যার, আপনি আমার অস্তিত্বে আঘাত করে বসেছেন;
কি করে চুপ করে বসে থাকি বলুন তো!
আমার পারিবারিক শিক্ষা এবং রুচিবোধ আমাকে চুপ থাকতে দিচ্ছে নাহ।
আমি আপনার বক্তব্যের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি, এবং এক দলা থুথু ফেলি আপনার কুৎসিত ভাবনার উপরে।..
উচ্চ শিক্ষা বোধ হয় বিলাসিতা মাত্র আপনাকে মানুষ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আমার কথা হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুই একজন মানুষ বা গুষ্টির উপর আপনার ব্যক্তিগত রাগ,ক্ষুব্ধতা থাকতেই পারে; এবং তা ও স্বীকার করছি আর দশ’টি জেলার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ও কিছু কুৎসিত, পশুর সামিল মানুষ রয়েছে… তাদের কে চিহ্নিত করা হোক।আইনের আওতায় আনা হোক।
কিন্তু তা না করে পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া কে নিয়ে কেন বলবেন?
স্যার,এ রাইট আপনাকে কে দিয়েছে?
৯টি উপজেলা এবং ৫টি পৌরসভা এবং ১০০টি ইউনিয়ন এবং সম্ভবত ৯৯৩টি মৌজা,
১,৩০০ টি’র বেশী গ্রামের প্রাণকেন্দ্র, স্মৃতিস্তম্ভ
এই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরটি।

তা ষ্টুপিড ; কি করে পারেন আপনি গোটা কয়েক’টি মানুষের দায়ভার পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়ানদের উপরে বর্তাতে?
সাবধান করে দিচ্ছি ক্ষমতার অপব্যবহার করতে যাবেন না !
সময় থাকতে স্যরি হয়ে যান!
আপনি কি বলেছেন; ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে পাটকাঠির মতো সি-ধাহ বানাবেন?
আপনি জানেন কি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খেটে-খাওয়া মানুষে-রা প্রচুর পরিমাণের পাটকাঠি ফলায়?
চলুন, একটা গল্প বলা যাক!

আমি তখন ১৩/১৪ বছরের হবো হয়তো,
একটি শিয়ালের উৎপাতে কৃষক-রা অতিষ্ঠ।
এ দিন মুরগী, সেদিন হাঁস এমনকি একদিন আমার পোষা পায়রাকে পর্যন্ত ছাড়েনি;।
হঠাৎ একদিন শিয়াল’টি কে ধরে,
এবং হাত-পা কোষে বাঁধলো।
তার পরে পটু, দুষ্টু শিয়াল’টির সাথে যা ঘটেছে, একথা আমার ভাবতেই
গা কেমন ছমছমে উঠছে;
পাটখেত থেকে বাছাই করে করে চার’টি সরস কাঁচা পাটকাঠি তুলে এনে,
চার’টি কাঠিকে একসাথে প্যাঁচানো হলে
এক-ঘা দু-ঘা করে আঘাত করতেই থাকে এবং করতেই থাকে.. ;।
তারপর ইতিহাস।..

তা মহোদয়, এই গল্প থেকে আমরা কি শিক্ষা পেলাম?
বেশী কিছু নয় মাত্র চার’টি পাটকাঠিই যথেষ্ট শয়তানদের শায়েস্তা করার জন্য।