কামুক পুরুষ : কবি শিপ্রা নবমি সন্ধ্যা

0
2026

কবিতা :কামুক পুরুষ
কবি শিপ্রা নবমি সন্ধ্যা

শিস বাজিয়ে বলি
আহ! কি জোস!
সুন্দর এক কলি।
রসে ভরা টুপ টুপ
অঙ্গখানি জাগায় লোভ
লালসার দৃষ্টিতে
দেবো ডুব চুপ চুপ।
আমি এক কামুক পুরুষ
নারী দেখে হারাই হুশ।

কাটবো সাঁতার ইচ্ছে মত
না হোক রং মনের মত।
দেখবো না সে ছুড়ি না বুড়ি
দেহ সেতো মাংশপিণ্ড
সে যে ভোগ্যপণ্য নারী।

কার বোন, কিসের বোন?
শোন নারী শোন।
চুষবো তোর অঙ্গ জুড়ে
তুইযে রসে ভরা প্রাণ জুস
করবো মজা প্রাণ ভরে।

বিচার হবে?
ধুর শালা।
ছাড়িনা মা, বোন কিংবা খালা।
দেহে জাগে নাচন
মানিনা কোনো বারণ।

বলবি তুই ঘরে আছে,
“মা অথবা বোন!! “
আহা! বোকা রমণী।
কামুক পুরুষ আমি
বাছিনে কোনো মন।

বসুক শত বিচার আচার,
পুরুষ আমি,
কামই সমাচার।

এইতো সেদিন রাস্তার ধারে,
দাঁড়িয়ে ছিলো বোরকা পরে।
দেখিনি সে বোন না মেয়ে
উন্মাদ হয়েছি মাংসল ঐ
স্তন পানে চেয়ে।
খুঁজেছি মাংসের ভাঁজ
থাকুক যতই পর্দার সাজ।

পর্দায় কি হয়?
নারীর মাংসে কি
আর হুশ রয়?

আহ! কি তৃপ্তি যোনীর রসালো খনি,
ছাড়বো না তোকে, দেখবো না কান্না,
দেহ ভোগ করতেই শুধু জানি।

দেহখানি যেনো এক লতানো কোমল ডগা
প্রতি কামড়ে যেনো মোলায়েম স্বাদ চাখা।

কি হয়েছে তাতে?
দেখেছে সবাই, শুনেছে জ্ঞানী,
আমি যে কামুক পুরুষ
বিচার হবেইনা জানি।

লুকাবে সে নারী অঙ্গের ভাঁজে
কামড়ে দেয়া ক্ষত।
সমাজপতি দেবে ধিক্কার
আঁস্তাকুড়ে থাকবে বাকি ধর্ষিতার মত।

আহ! কি সুখ ছিলো সেদিন!
বাসের ভেতরে তিনজনে মিলে
এক মাংসের দোকান ছিঁড়ে খেলাম যেদিন।

চিৎকার করেছিলো বিচার চাইবে বলে,
তক্ষণি ছুরি চালালাম গলে।
পাঁজর লাথি দিয়ে ভেঙ্গেছি,
বুকের তুলতুলে মাংস
কামড়ে, আঁচড়ে ছিঁড়েছি।
মনে হয়েছিলো যেনো
মানুষ নয়, কোনো
বিড়াল যেনো মেরেছি ।

আহ!আহ!
ওর চিৎকার যেনো
জাগিয়ে দিলো উন্মাদ নাচন।
হায়েনার মত কামড়েছি কতক্ষণ।
পৈশাচিক আনন্দে মেতেছি সাথে
কি হয়েছে তাতে?

সবাই ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে
আন্দোলনের ঝড় তুললো।
পত্র পত্রিকায় নয়তো ফেসবুকে
ছবি তুলে প্রচার করে
নাম কুড়ালো।

আমি দুদিনে লাল দেয়ালে
জামাই আদরে বাইরে
আবার আগের মতো।
কি করবো নারী ওগো?
কামুক পুরুষ
দেখলে তোমায় কাম জাগে শতো।

সেদিন পাগলিকে,,,,
আহ! জোস ছিলো পাগলিটা।
মন ভোলানো ছিলো না
দুর্গন্ধময় দেহটা।
তবুও বীর্যের কামুক জ্বালা মেটাতে রস ছিলো অঙ্গে।
উঠে পড়ি সাতজন একই সঙ্গে।

অবশেষে রক্তাক্ত শরীরে
গলা টিপে ফেলে রাখি
রড ঢুকিয়ে নারীভুঁড়ি বের করে।

উফ! কি সুখ!!
আজ ও বুক ফুলিয়ে
সবার মাঝে এই আমি
কামুক পুরুষ।
হয়নি আজও কালিমা
আঁকা এ মুখ।

সেদিন স্কুলে,
চার বছরের
হোক সে ছেলে।
কি দারুণ টুসটুসে গাল!
ইচ্ছে হচ্ছিলো এক কামড়ে
খুবলে নেই, ভরে দেই সব মাল।
সুযোগ পেয়েই ডেকে নিয়ে
অফিসে,
দিলাম এক ধাক্কা।
মুখ চেপে কান্না আটকে
মিটালাম কাম উত্তেজনা
ভাবিনি বাঁচবে নাকি পাবে অক্কা।
সিনা টান করে হেঁটে চলছি
কাম মনোবৃত্তি নিয়ে
নারীর অধিকারের জন্য লড়ছি।
চেনা যায়?
চিনবে কিভাবে?
আমি তোমাদের সকলের মাঝে।
তোমাদের রূপ ও সাজে।

সেদিন অফিসে,
অইযে নারী কলিগ!
যথেষ্ট বিনয়ী, কর্মঠ ও সজ্জন।
সবার চেয়ে উন্নত তার শির।
কথার ঝড়ে করেছি তার সম্মান লুণ্ঠন।
মেধার লড়াইয়ে হেরে
নাম দিলাম তার বেশ্যা।
রূপ দেখিয়ে ভুলিয়ে নেয়াই ব্যবসা।
বললাম তাকে হবেইতো তোমার পদোন্নতি,
আমাদেরও হতো
তোমার মত দেহ থাকতো যদি।
যা আছে তোমার
নাই যে আমার।
পারিনা দোলাতে বসের মন
পাই কি করে প্রমোশন?
ভুলে যাই তুমিও নারী
মা,বোন সেও নারী
আমি শুধুই হারাতে জানি হুশ
কারণ আমি কামুক পুরুষ।