আশুগঞ্জের চরচারতলায় একটি মার্ডার কে কেন্দ্র করে চলেছে লুটপাটের মহোৎসব ও সন্ত্রাসী তান্ডব।

0
492

আশুগঞ্জের চরচারতলায় একটি মার্ডার কে কেন্দ্র করে চলেছে লুটপাটের মহোৎসব ও সন্ত্রাসী তান্ডব।
চ্যানেল প্রবাহ নিউজ ডেস্ক।

°°°°′°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা গ্ৰামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলা চেয়ারম্যানের ছোট ভাই বর্তমান মেম্বার সাদ্দাম ও লতি বাড়ির দুই জন লোক কে মারধর করে তার কোন মীমাংসা করেনি মুন্সী বাড়ির লোকজন সেখান থেকেই ঝগড়ার সুত্রপাত,তারই ধারাবাহিকতায় গত ২২ শে জানুয়ারি রাতে লতি গোষ্ঠী ও মুন্সী বাড়ির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে এবং রাত আনুমানিক ১ টার সময় চট্টগ্রাম ট্রাইব্যুনাল মামলা নং ৩৩/২০০৮ চাঞ্চল্যকর পাঁচ মার্ডারের এজাহার ভুক্ত আসামি ও বর্তমান আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সীর ছোট ভাই জামাল মুন্সী নিহত হন।

পরের দিন নিহত জামাল মুন্সীর আরেক ভাই জাহাঙ্গীর মুন্সী ২৭ জন কে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যা মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই পুরো গ্ৰাম পুরুষ শুন্য হয়ে পড়ে, এই গ্ৰামে আধিপত্য কে পোক্ত করার জন্যে উপজেলা চেয়ারম্যান হানিফ মুন্সীর নির্দেশে তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে পুরুষ শুন্য গ্ৰামে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়, ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে লুট করা হয় দামী স্বর্নালংকার, স্টিলের নৌকা, মটরবাইক্সকহ লুট করে নিয়ে যায় কয়েক শত গরু,মহিষ, পুকুরের মাছ বাদ পড়েনি জমির ফসলও।

মামলা পরবর্তি পুরুষ শুন্য গ্ৰামে এমন লুটপাটের মহোৎসব চলছে যা ৭১ সালের হানাদার বাহিনী কে ও হার মানিয়েছে, মহিলারা ইজ্জত বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়, লতি বাড়ি, খন্দকার বাড়ি খা বাড়ি ও নাগইড়া বাড়ির প্রায় ৩৫০ টি পরিবার মুন্সী বাড়ির লাঠিয়াল বাহিনী সন্ত্রাসীদের ভয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। অন্যদিকে লতি গোষ্ঠী লোকজন বলেন লুটপাটের সময় পুলিশ নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং যারা ঝগড়ার সাথে জড়িত নয় এমন ব্যাক্তিদের মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন। লতি গোষ্ঠীর লোকজন বলেন আমরা ও হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই এবং যারা হত্যার সাথে জড়িত নয় তাদের বাড়িঘর যারা ভাংচুর করে লুটপাট করেছে তাদের ও আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

মুঠোফোনে লতি গোষ্ঠীর সেলিম পারভেজের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আমি একজন ঠিকাদার ও ব্যাবসায়ী এবং নিয়মিত সরকার কে কর প্রদান করি, ঝগড়া ফ্যাসাদ পছন্দ করি না, আমি চাই শান্তিপূর্ণ ভাবে মিলে মিলেমিশে বসবাস করতে,হত্যার দিন আমি নিজ বাড়িতে ছিলাম, আমাকে উপজেলা চেয়ারম্যান নিজে ফোন করে তার ভাই নিহত হওয়ার খবর দেন কিন্তু তারপরও আমাকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে।
হত্যা পরবর্তি সময়ে মুন্সী বাড়ির লোকজন আমাদের চার গোষ্ঠীর আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে।‌ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় এলাকার বেশীরভাগ লোক ই ঝগড়ার বিপক্ষে তারা ঝগড়া চাই না শান্তি চায়।


তাঁরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান আপনারা দয়া করে দুএকজন হয়তো হত্যার সাথে জড়িত তাদের ডিবি,পিবিআই অথবা সিআইডি পুলিশের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন এবং পুরো লতি গোষ্ঠীর লোকজনের বাড়িতে মধ্যযোগীয় কায়দায় জুলুম নির্যাতন ও লুটপাটের মহোৎসব বন্ধ করুন। পবিত্র রমজান মাসে ও চলছে লুটপাট ও নির্যাতন, লতি গোষ্ঠীর অসহায় নারীগন বলেন আমরা আমাদের নিজ বাড়িতে থেকে ধর্মকর্ম করতে চাই।আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পাই লতিফ বাড়ি খন্দকার বাড়ির খা বাড়ী নাগর বাড়ি এই চার টি বংশের মোট ৪০০ পরিবার এলাকা ছাড়া।

পরে মুঠোফোনে সাদ্দাম মেম্বারের সাথে আমরা কথা বলি। তিনি বলেন এই করোনা কালীন সময় এবং রমজান মাসে আমরা এই ৪০০ টি পরিবার এলাকা ছেড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। প্রশাসনের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি এই মহামারী এবং এই রমজান মাসে আমরা যেন আমাদের বাচ্চা এবং বৃদ্ধদের কে নিয়ে এলাকায় বসবাস করতে পারি এই সুযোগটা যেন প্রশাসন আমাদেরকে করে দিই। পবিত্র রমজান মাসে ও লুটপাট ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং অসহায় নারীদের সাথে অশালীন আচরণ করায় আশুগঞ্জ সহ পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিন্দার ঝড় উঠেছে।