ইতালিতে করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা ‌ ।

0
188

ইতালিতে করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা ‌ । পলাশ রহমান, ভে‌নিস, ইতা‌লি :
=================================

ইতালির রোমে আওয়ামীলীগের সংবাদ সম্মেলন দেখলাম। তারা রোমের বিএনপি নেতা শাহ তাইফুর রহমান ছোটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তিনি জার্মানির ডয়েচেভেলে এবং ইতালিয় মিডিয়ায় দেশবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।
তাদের অভিযোগ মতে জনাব ছোটন করোনা ইস্যুতে বাংলাদেশকে জাহান্নাম বলেছেন।
আরো বলেছেন, বাংলাদেশে করোনা চিকিৎসা হয় না। বাংলাদেশে থাকা দশ হাজার ইতালিয় প্রবাসী এদেশে ফেরত আসতে চায়।

এসব অভিযোগ করে আওয়ামীলীগের নেতারা বলেছেন, বিএনপি নেতা ছোটনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তার দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। আমার কথা হলো- ছোটন সাহেব মিথ্যা কী বলেছেন? দেশের মানুষ কী করোনা চিকিৎসা পাচ্ছে? দেশে কী জাল করোনা সার্টিফিকেট দেয়া হয় না বা হয়নি? দেশে থাকা প্রবাসীরা কী লাখলাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ করে হলেও এই মুহুর্তে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন না?
এসব খবর কী দেশি বিদেশি মিডিয়ায় আসছে না? ঢাকার দূতাবাসগুলো এসব খবর তাদের দেশকে জানায় না? বিশ্ব মিডিয়াগুলো জানে না?
সত্যি কথা বল্লে সমস্যা কোথায়? সত্যি কথা কেনো দেশ বিরোধী হবে?  সব কিছুতে ঢাকাঢাকি করে লাভ কী? যেখানে জীবন মরণের সমস্যা সেখানেও কেনো ঢাকাঢাকি করতে হবে?

আপনাদের কান্ড দেখলে তসলিমা নাসরিনের ভাষায় বলতে হয়- তোমরা নারীর অন্তবাসের ফিতা ধরে টানাটানি করলে দোষ হয় না; সেকথা লিখে ফেললেই যতো দোষ! সংবাদ সম্মেলনে বসার আগে ইতালিয় মিডিয়ায় প্রকাশিত কথাগুলো একটু ভালো করে দেখে-বুঝে বসা দরকার ছিল। ছোটন সাহেব দেশকে জাহান্নাম বলেননি; করোনা মহামারিতে সৃষ্ট শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিকে জাহান্নামের সাথে তুলনা করেছেন। যেমন একজন প্রবাসী দেশে গিয়ে অনিয়ম অব্যাবস্থাপনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে গালাগাল করেছিলেন। ওই গালাগাল বা ক্ষোভ দেশের বিরুদ্ধে ছিল না; বরং দেশের প্রতি অকৃত্তিম ভালোবাসার বহিপ্রকাশ ছিল, প্রত্যাশার বিস্ফোরণ ছিল। যা ধারণ করতে অনেকের কষ্ট হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্তত চারজনকে আমি জানি যারা দেশে করোনা মহামারি শুরু হলে পালিয়েছেন। কাড়িকাড়ি বাড়তি টাকা খরচ করে ইতালি চলে এসেছেন।
সবিনয়ে জানতে চাই- আপনারা এই অসময়ে কেনো দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন? আপনাদের ভাষায় দেশে তো কোনো সমস্যা নেই, দেশ তো সিডনি সিংগাপুরকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। আপনারা কেনো পালালেন? সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, ছোটন সাহেব ডয়েচেভেলে এবং ইতালিয় মিডিয়ায় দেশের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। ইতালিয় কোন মিডিয়ায় কী বলেছেন নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। অভিযুক্ত মিডিয়াগুলোর কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতিও দেখা যায়নি।

আড়াই জন সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে আওয়ামীলীগ নেতারা বলেছেন, বিদেশ থেকে যারা তাদের সরকারের সমালোচনা করে তাদের নামের তালিকা দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে পাঠানো হয়। দেশে নাকী প্রবাসী সমালোচকদের পাসপোর্ট বাতিলের আইন পাশ করা হয়েছে। (আমার জানামতে মিথ্যা তথ্য) সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আওয়ামী নেতারা রোমের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেমে এতটাই বিভোর যে, দূতাবাস কর্মচারী কর্মকর্তাদের সমালোচনা করার অভিযোগ তুলে তারা নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও দল থেকে বহিস্কালের হুমকি দেন।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কারো মুকে মাস্ক ছিল না। কেউ এক মিটারের নিরাপদ দূরত্ব বজায়ে রাখেননি। যা ইতালিয় আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। বিশেষ করে ইতালিতে বাংলাদেশি কম্যুনিটির ইমেজগত যে সংকট তৈরী হয়েছে- দেশের জাল করোনা সার্টিফিকেট এবং করোনা পজেটিভ রোগী আসার কারণে; এর মধ্যে ইতালিয় আইন অমান্য করে এমন একটা সংবাদ সম্মেলন করা যে কোনো বিবেচনায় কম্যুনিটির জন্য ঝুকিপূর্ণ হয়েছে। এতে সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে।
কেউ যদি ওই সংবাদ সম্মেলনের ছবি/ভিডিও ইতালিয় প্রশাসনের কাছে দেয় এবং করোনাভাইরাস চাষাবাদের অভিযোগ করে- তখন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সবাই উল্টো বিপদে পড়ার সম্ভবনা তৈরী হবে।