নবীনগরে দুই আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে খাস জমি দখলের অভিযোগ।

0
253

নবীনগরে দুই আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে খাস জমি দখলের অভিযোগ। চ্যানেল প্রবাহ ডেস্ক রিপোর্ট :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নে সরকারী খাস জায়গা দখল করে বাড়ি ও অফিস ও দোকানপাট নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে বীরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ।

অবৈধ দখলদারদের নিকট থেকে বাজার ও সরকারী রাস্তার জায়গা উদ্ধার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে, ভূমি মন্ত্রনালয়ে মন্ত্রী বরাবারে লিখিত আবেদন করেছেন বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী কবির আহম্মেদ।

অভিযোগসূত্রে জানাযায়, উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বাইশমৌজা গরুর বাজারে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তির নামে বরাদ্ধ করা ভিটি অফিসের নামে দখল করা,বাজারের ভিতর চায়ের দোকান,ফলের দোকান ও মুদি দোকান অবৈধভাবে বসিয়ে ওই দোকানদারদের কাছ থেকে মাসে মাসে ভাড়া নেওয়া এবং বাইশমৌজা বাজার সংলগ্ন শিবপুর ব্রীজের কাছে একটি রাস্তা দখল করে বাড়ি তৈরি করা সহ বিভিন্ন অভিযোগ বীরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। সরকারী রাস্তা দখল করে বাড়ি তৈরি করার ফলে ওই রাস্তা দিয়ে মানুষের যাতায়তে পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি, প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। বাজারের ভিতর অবৈধভাবে দোকানপাট বসার কারনে গরুর বাজারটি দিনে দিনে ছোট হয়ে যাচ্ছে এবং বাজারে ক্রেতা বিক্রেরা পড়ছে চরম বিপাকে, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীরও রয়েছে।
অপর দিকে বীরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আফজাল হোসেন বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নজরদৌলতপুর গ্রামের চক বাজারে সরকারী খাস জায়গা দখল করে তৈরি করেছেন নিজস্ব অফিস,কিন্ডার গার্টেন ও বানিজ্যিক দোকানপাট। ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে এ সব অভিযোগ এনে, অবৈধ দখলদারদের নিকট থেকে বাজার ও সরকারী রাস্তার জায়গা উদ্ধার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে, ভূমি মন্ত্রনালয়ে মন্ত্রী বরাবারে লিখিত আবেদন করেছেন বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী কবির আহম্মেদ। ওই অভিযোগের অনুলিপি ভূমি মন্ত্রনালয়, বিভাগীয় কমিশনার ভূমি চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসক ব্রাহ্মণবাড়িয়া,নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নবীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসেও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে হোসেন সরকার বলেন,আমার নিজের সম্পত্তিতে বাড়ি তৈরি করেছি, সরকারী জায়গা প্রমান হলে আমার বাড়ি ভেঙ্গে ফেললে কোন আপত্তি থাকবেনা। তিনি আরো বলেন,আমি কারও ভিটি দখল করি নাই,তবে বাজারে আমার একটি বৈধ ভিটি আছে। কোন দোকান থেকে ভাড়া নেওয়া হয়না, বাজারে কিছু অবৈধ দোকান আছে সত্য, সেগুলো উচ্ছেদ করার দাবী আমারও।

আফজাল হোসেন জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোন সরকারী জায়গা দখল করি নাই। কিন্ডার গার্টেন স্কুলটি মালিকা জায়গাতে করা হয়েছে। ওই কিন্ডার গার্টেনের চারজন পার্টনার রয়েছে। আমি জনগনের জন্য রাজনীতি করি, লুটপাটের জন্য নয়। প্রতিহিংসা মূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। সরকারী জায়গা দখল করেছি, কেউ প্রমান দিতে পারলে যে কোন শাস্তি মাথা পেতে নেব।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা অস্বীকার করে নবীনগর উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম জানান, এ বিষয়ে কোন অভিযোগ এখনো পাইনি।