বিনার জীবন : নীলিমা ইয়াসমিন

0
668

              বিনার জীবন
         নীলিমা ইয়াসমিন

☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆☆

মেয়েটির নাম বিনা।দেখতে সুন্দরি বলা যায়।ছয় ভাই বোনের সংসার।ঢাকা শহরে বাস করে মোহাম্মদপুর এলাকায়। বড় দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ব্যাক্তিগত জিবনেও তারা স্ব স্ব স্থানে প্রতীষ্ঠিত। বিনা আর বিনার ছোট বোন হেনা ১১মাসের ছোট বড়।যময দুই বোনের মত।পড়ালেখাও একই ক্লাসে করেছে।বিনার বাবা অসুস্থ হয়ে অনেকদিন বিছানায় পড়ে আছে।বিনা আর হেনার H.s.c পরীক্ষার পরই বাবা মারা গেলেন।চার ভাই বোন আর মাকে নিয়ে পাঁচ জনের সংসার ওদের।ভাগ্য ভালো H.s.c পাশ করার সাথে সাথে ছোট বোন হেনার একটা সরকারি প্রতিস্ঠানে চাকরি হয়ে গেল।ওই সংসারের হাল ধরলো।বিনাও চেস্টা করেছিলো কিন্তু হোলনা।বিনা ডিগ্রিতে ভর্তি হয়ে গেল।আর পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্সের কাজ শিখলো।এক বৎসর যেতে না যেতেই বিনারও একটা ইলেকট্রনিক্সের বড় কোম্পানীতে চাকরী হয়ে গেল ভালো বেতনে। ভালোই কাটছিলো দিন গুলি। আটটা পাঁচটা অফিস পাশাপাশি পড়ালেখাটাও চালিয়ে গেল।B.a পাশ করলো বিনা।চাকরির জায়গায় বস ওর ব্যাবহার আর দক্ষতায় খুশি হয়ে প্রোমশন দিয়ে সৃপার ভাইজার বানিয়ে দিলো।বেতন আরো বাড়লো।

বাবাকে আল্লাহ নিয়ে গেছে কিন্তুু সাথে সাথে আল্লাহ কিছু সুখের উপহারও দিয়েছেন।স্বপ্নের মতো দিনগুলি কাটছিলো বিনার স্বপ্নোত তাই বেশিদিন টিকলোনা।একদিন অফিস থেকে এসে দেখলো বাসায় অনেক রান্নার আয়োজন চলছে। মাকে জিঙ্গাসা কোরলো বিনা। মা এত আয়োজন কিসের? কারা আসবে? মা বললো ছোট বোন হেনাকে কারা দেখতে আসবে। বিনাদের ফ্যামিলির পরিচিত এক চাচা বিয়ের প্রস্তাবটা এনেছে। ওনাকে সবাই হাজি সাহেব নামে চেনে।জিবনে বহুবার হজ করেছে। কিন্তু উনিতো বিনাকে খুব পছন্দ করতো। বাসায় আসলেই বলতেন তুই আমার মেয়ে তোর বিয়ে আমিই দিবো।বিনার জানি কেমন একটু লাগলো।হাজি কাকা আমাকে রেখে হেনার জন্য বিয়ার প্রস্তাব নিয়ে এলো।

মা বললো যা গোসল করে খেয়ে রেস্ট নে।বিনা বললো কের তোমরা সবাই কাজ করছো আমি কেন রেস্ট নিবো।মা বললো নিতে বলেছি নে।বিনা বুজলো ব্যাপারটা আসলে ওকে নিয়েই। বিনা কিছু বললোনা মায়ের উপরে কথা বলতে ভয় পেত। ও গোসল সেরে ভাত খেয়ে অন্য রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো।মা বোললো একটা ভালো ড্রেস পড়েনে।বিনা বললো সত্যি বলোত ব্যপারটা কি? মা বললো হাজি সাহেব এসেছিলো।মিরপুর থেকে কারা আসবে।ওরা তোর ছবি দেখে অনেক পছন্দ করেছে। এখন দেখতে আসবে।ছেলের ফ্যামিলির সবাই। বিনা কিছু বললোনা। ছেলেরা আসতে আসতে রাত দশটা বেজে গেল।ছেলের ভাবি আর বোনরা এসেই সরাসরি ঘড়ের ভিতরে ঢুকে গেল।যে রুমে বিনা সেখানে।ছেলের ভাবি অনেক অনেক প্রশ্ন করলো বিনাকে।বিনা কিছুই বুজতে পারলোনা কী ঘটতে চলেছে তার জিবনে।

বিনা নানা প্রশ্ননের জবাব দিতে লাগলো।ভাবিএকটু পরে ড্রয়িং রুমে চলে গেল।পরপরই ঘটক এসে ওরা বিনাকে আংটি পরাতে চায়।মা বোললো একটু পরে বলি।মা বিনার কাছে এলো। মাা—-ওরা আংটি পরাতে চায়। তুই একবার ছেলেটাকে দেখবি?? বিনা—-+তোমরা দেখেছ??মা—-হা দেখেছি উচালম্বা আছে।চেহারা দেখা যায়না মাথা নিচু করে আছে।বিনার অবশ্য মা আর ভাইবোনের পছন্দের উপরে ভরসা ছিলো। তাই বললো তোমরা দেখ মা তাহলেই হবে।এর মধ্যে ছেলের ফ্যামিলির সবাই রুমে প্রবেশ করলো আর বিনাকে ডাকলো এবং ছেলে এসে আংটি পড়িয়ে দিলো। তারপড় ঘটক এসে বিনার মাকে বললো ওরা বিয়ে পড়াবে এখুনি। মাতো রাজিনা বললো না এখন নয়। দুদিন সময় দেন আমি ছেলের খোজ খবর নিবো। হাজি সাহেব এসে মায়ের পা জড়িয়ে ধরলো। আপনার এই মেয়েটাতো আমার। ওর সুখ দুঃখ সব কিছুর দায়িত্ব আমার মেয়েটা আমাকে দিয়ে দেন।মা কেমন জানি কিছু বলতে পারলোনা।বিনার বিয়ে হয়ে গেল রাত তখন দুইটা বাজে।বিনার জিবনে আর একটা অধ্যায় শুরু হোল বিনা তা টেরই পেলনা।পড়ের দিন ছেলের সাথে বিনার দেখা হল।

বিনাতো হতবাক ছেলের বয়স বিনার থেকে আরনা হলেও বিশ বছরের বড়। আর মখের বাম পাশে চোখ কাপে সারাখন কি একটা অসুখে অবশ হয়ে গেছে।তারপর থেকে এই অবস্তা।বিনার সমস্ত আকাশটা কালো মেঘে ভরে গেল। ছেলেকে ওর ভালো লাগেনি।কিছুক্ষণ পর ছেলেরা চলে গেলে বিনা ঘড়ের দড়জা বন্ধ করে কান্নাশুরু করলো।মা আর বোনদের মন খারাপ হয়ে গেল।ওরা বোললো কান্না করিসনা পছন্দ নাহলে যেতে হবেনা মাএ কবুল বলেছিস। কেউ এখোন জানতে পারেনি।বিনা কথাটা মানতে পারলোনা।বিনা বললো কলেমা পড়ে যাকে কবুল বলেছি তার সাথেই মানিয়ে নেবো। তার দুই মাস পরে বিনাকে ওরা ছোট খাটো অনুষ্ঠান করে নিয়ে গেল। বিনা শশুড় বাড়ি চলে এলো।শশুড় বাড়ি এসে বিনার জিবনে নতুন নতুন করে অনেক গুলি ঘটনা ঘটতে লাগলো।স্বামি কিছু করেনা সারাদিন আড্ডা আর বন্ধু বান্ধব তার মধ্যে মেয়েলি দোষ বলতে যা আছে তার সব গুলি চরিত্রে বিদ্যমান। ইনকামের মধ্যে তার বাবার একটা প্লট আছে মিরপুর বারোত।ওখানে কয়েকটা রুম তুলে রেখেছে ওখান থেকে মাসে দশ হাজার টাকা ভাড়া পায়।সিনেমার প্লট পরিবর্তনের মতো বিনার জিবনে একটার পরে একটা ঘটনা ঘটতে লাগলো।স্বামির সাথে ভালোবাসার সম্পর্কটা হোলইনা।

কোন রকমে ধাক্কা গুলি সামলাতে সামলাতে তিন চার বছর কেটে গেল।এত দিনে ওদের সংসারে কোন সন্তান হোলনাবিনা স্কামিকে বোললো চলো ডাক্তারের কাছে যাই বাচ্চা কেন হয়না।ওর স্বামি রাজি হয়না।তারপরও বিনা জোড় করে নিয়ে যায়।গাইনি বিভাগের হেড টি এ চৌধুরির কাছে গেল ওরা। ডাক্তার অনেকগুলি হড়মোন টেস্ট দিলো।ওর স্বামিরও সব ধরনের টেষ্টদিলো ওর নিজেরও। দুদিন পড়ে রিপোর্ট দিবে। বিনা অফিসে যাবে স্বামিকে বলে গেল রিপোর্ট গুলি এনো।বিনা অফিস থেকে এসে ওয়ার্ড ড্রপের উপর ওর রিপোর্ট গুলি। তার স্বামির রিপোর্ট গুলি নেই।উনি অনেক রাএ করে বাসায় এলো।বিনা জানতে চাইলো তোমার রিপোর্ট কই?? স্বামি বললো হারিয়ে ফেলেছি।তার মানে কি সত্যি করে বলো।আমি কিছু মনে কোরবোনা।সে সত্যি বললোইনা।বিনা তার রিপোর্ট গুলি নিয়ে ডাক্তারের কাছে গেল। ডাক্তার বললো আপনার কোন অসুবিধা নেই।শুধু ছোট একটা অপারেশনের মতো।ওটাকে লেপারেক্স কপি বলে।বেবি টিউবে কোন জ্যাম থাকলে তাসরিয়ে দেয়া হয়।বিনা ক্লিয়ার থাকার জন্য তাও করালো।এভাবে এক বছর কাটলো। বিনা স্বামিকে আবারো অনুরোধ করলো চলো ডাক্তারের কাছে যাই।সে গেলইনা।কয়দিন পরে বিনার স্বামির পরিচীত এক মহিলা হসপিটালের নার্স।একটা বাচ্চা নিয়ে এলো। হসপিটালে জন্ম দিয়ে মা ফেলে চলে গেছে।

বিনার স্বামি ঘরেএলে বিনা জানতে চাইলো তুমি কারো কাছে বাচ্চা চেয়েছ।ওর স্বামি নিরব কথা বলেনা।পর পর দুই বার এমন হোল।এবার বিনার মন খারাপ হয়ে গেল। বিনা বাচ্চাদের দেখার পরে যখন ফিরিয়ে দেয় ওর চোখের সামনে ওই বাচ্চাগুলির মুখগুলি ভাসে।ওর ভিতর একটা অপরাধ বোধ জেগে ওঠে।ওই কচি মুখ গুলি যেন বলছে আমাকে তুমি নিলেনা।আমারতো মা নেই তোমারতো সন্তান নেই। বিনা তার স্বামির কাছে জানতে চাইলো তুমি কি সিওর যে কোনদিনও বাবা হতে পারবেনা। বারবার মানুষের কাছে কেন বাচ্চা চাও?? ওর স্বামির এই গুনটা বরাবরই ছিল
জিবনে যা করার তাই করে যায় চুপে চাপে।বিনা বললো সত্যি বলো আমি তকদিরের বিধান বলে সব মেনে নিবো।বিনার স্বামি তাও কথা বললোনাসত্যি কথা।সত্যি কথা স্বীকার করার মত গুন তার কোন দিনই ছিলোনা।বিনা বুঝতে পারলো তার তার স্বামির বাবা হওয়ার মত কোন যোগ্যতাই নেই। এবং তাসে জানে কিন্তু বলবেনা।বিনার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।হায় একি ?? জিবনের সব চাওয়া গুলি কেন তার সাথে পরিহাস করছে। এরপরে আর একদিন এক মহিলা একটি বাচ্চা নিয়ে এলো বিনা আর না করতে পারলোনা।বাচ্চাটার মুখটা একরাশ মায়ায় জড়ানো।মাএ এক হাজার টাকার বিনিময়ে বাচ্চাটাকে দিয়ে চলে গেল তার মা।বিনা অবশ্য কিছু জানতে চায়নি।

বিনার একটা নতুন জিবন শুরু হোল।বাচ্চাটাকে নিয়ে বিনা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখলো।এবার ওকে নিয়ে জীবনের সব না পাওয়ার দুঃখ গুলিকে ভুলে যাবে।এভাবে কাটলো আরো দুই বছর। বিনার স্বামি অবশ্য মেয়েকে অনেক ভালোবাসে।কিন্তু বিনার সাথে তার সম্পর্ক্ কখন যেন অনেক দুরে চলে গেল।বিনা বাচ্চাকে রেখে অফিসে যেতে পারেনা।বাচ্চা রাখার জন্য ভালো মানুষ ও খুঁজে পায়না।তাই চাকরি ছেরে দিলো।চাকরি ছেরে বেশ মোটা অংকের কিছু টাকা পেল। টাকাটা ফিক্স ডিপোজিট করে রেখে দিলো।কারন এই টাকা দিয়ে যা পাবে তাই দিয়ে প্লটের ভাড়া দিয়েত সংসার চালাতে হবে। স্বামিতো এখনও কিছু করেনা বেকার ঘুড়ে বেড়ায়।কিছুদিন ধরে বিনার স্বামির ভালোবাসা অনেক বেড়ে গেল।।বিনা বোকা তাই স্বামির স্বামির সরযন্ত্রগুলি একদম বুজতে পারলোনা।স্বামি বললো প্লটটাতো বাবার ভাইবোনেরা বিক্রি করে দিতে বলছে টাকাগুলি দাও তোমার নামে প্লট কিনি।বিনা সংসারের মঙ্গল চিন্তা করে টাকা গুলি দিয়ে দিলো।পরে দেখলো স্বামি প্লট কিনেছে ঠিকই কিন্তু নিজের নামে।

এবার বিনার স্বামির চলাফেরা আরো বেপরোয়া হয়ে গেল।বিনা মনের দুঃখে কেমন যেন বোবা হয়ে যেতে থাকলো। কিছুদিন পরে আর একটি ঘটনা ঘটলো।বিনার স্বাামি দুই দিন ধরে ঘড়ে আসেনা। বন্ধু বান্ধবের কাছে খোঁজ নিয়ে জানলো তার স্বামিএকট রেপ ক্যাসের আসামি হয়েছে তাই পালিয়েছে।ধরাপরলেই ফাসি।কারন গন ধর্ষন কেসের আসামি।বিনা মেয়ের কথা চিন্তা করে। বিনার এক খালাতো ভাই ছিলো মতিঝিল থানার ডিসি তার কাছে গেল।লজ্জা শরম ভেঙ্গে সব বললো। ভাই বললো তুই যা আমি সব দেখছি। ভাই মিরপুর ডিসিকে বলে দিলো। ডিসি সব দায়িত্ব্য নিয়ে কেস সমাধান করে দিলো।বিনা স্বামি ঘড়ে আসার পরে ভালো করে জিঙ্গ্সা করলো সত্যি করে বলো তুম একাজ করেছ।স্বামি নিরুওর।বিনা তার স্বামিকে কোরান শরিফ হাতে নিয়ে বলতে বললো দেখ এর উপড়ে অনেক কিছু নির্ভর করছে তোমার আমার সম্পর্কের।কিন্তু কোরান শরিফ ছুইলোনা।বিনার সাথে তার স্বামির সম্পর্কের আরো অবনতি ঘটলো।মেয়েটা বড়। হচ্ছে বিনা কিছু করতে পারলোনা।এভাবেই দিন চলছিলো বিনার।

এর মধ্যে বিনার স্বামির উন্নতি হোল অনেক।ঘড়ে থাকে ইন্টারনেট চালায় সারাদিন। ফেইসবুকে তার অনেক মেয়ে বন্ধু তার।বিনা অবশ্য এনিয়ে কখনও মাথা ঘামায়না। একদিন বিনাও একটি ফোন কিনে ফেলে এবং একটি একাউন্ট খোলে। বিনা একটু আধটু লেখালেখি শুরুকরে।আস্তে আস্তে বিনার লেখাগুলি অনেকের পছন্দও হয়।বিনা একটি নতুন জিবনের স্বাদ পায়। কিছুদিন পরে বিনা খেয়াল করে তার লেখালখিতে একজন খুব যত্ন করে কমেন্ট দেয় আর মাঝে মধ্যে বিনার ম্যাসেঞ্জারে আসে নাম শিশির।উনিও লেখালেখি করে ওনার লেখাও সুন্দর বিনা নিয়মিত পড়ে।বিনার কেমন জানি এক ধরনের ভালোলাগা সৃস্টি হয়। তার ম্যাসেজের প্রতিক্ষা করে।একদিন ফোন নম্বরটাও নিয়ে নেয়।মোবাইলে কথা হয়।তার না বলা কথা বলা কথা গুলি বলার একটা সাথি খুজে পায় সে কোন সময় যেন বিনা সব শুন্যতার মাঝে একটু খানি পাওয়া হয়ে যায় শিশির নামটি সে বুজতে পারেনা। হয়ত এটা ঠিক নয়।

মানুষের মনতো বন্ধুত্বো চায় সবসময় শিশিরের সাথে কখন যেন সহজ সরল বন্ধুত্বব গড়ে ওঠে।কখনও তাদের দেখা হয়নি।কেমন যেন একটা মায়ার জড়িয়ে যায় ওরা।কিন্তু ব্যাপারটা ওর স্বামি জানতে পারে।জেনে সে বিষয়টা খুব খারাপ দিকে নিয়ে নেয়।যা বিনা কল্পশিনাও করতে পারেনা।বিনা শিশিরকে বলার পরে শিশিরও আর যোগাযোগ করেনা।ভয় পেয়েছে। বিনা বুজতে পারে শিশিরের কথা বলাটা কোন আন্তরিকতা ছিলোনা ওটাও নিছক সময় কাটানো।কিন্তু এর মধ্যে বিনা হারিয়েছে অনেক কিছু।বিনার স্বামি আত্মিয় স্বজন সবাইকে বলে দিয়েছে বিনা ফেইসবুকে প্রেম করছে। মেয়েটাও এর মধ্যে জেনে গেছে সে আমাদের পালক সন্তান।এখন আর মায়ের কাছে যায়না বলে তুমি আমার মা নও।জানতে চায় আমার মা কে বলো? এবার বিনা আর সইতে পারেনা মান সন্মানও গেল মেয়েকেও হারালাম স্বামিতো কোনদিন ছিলোইনা।।যা ছিলোনা তা হারানোর কোন ভয় বিনার নেই। তবে ওর স্বামির মানসিক অত্যাচার দিন দিন বারতেই লাগলো।নোংরা কথা আর অবহেলা বাড়তেই থাকলো।বিনা সহ্য করতে না পেরে স্বামির সংসার ছেড়ে দিল।

মায়ের বাড়ি চলে গেলো।বিনা চিন্তা করলো জীবনের সব আয় ব্যায়ওতো স্বামিরে দিছি। এবার আমার কিছু চাই।সে সম্পত্তির অধিকার চেয়ে এলাকার কমিশনারের কাছে বিচার দিলো।সামাজিক ভাবে।বিচারে বসে বিনার স্বামি প্রথমে সব অস্বীকার করলো। পরে বিনা যখন প্রমানপত্র দিলো।তখন কমিশনারের ওখান থেকে চাপ দিলো সম্পত্তির অর্ধেক ভাবিকে দিতে হবে।সে বললো সম্পত্তি দিবোনা।জীবন গেলেওনা।এভাবে অনেক দিন কাটলো বিনা সিন্ধান্ত নিলো এবার আর সম্পত্তিও লাগবেনা।মেজ বোন বললো আমার কাছে নাটোর চলে আয় আর ওই সংসারে ফিরিসনা। তখন বিনার স্বামি হয়ত ভয় পেলো না কি ভাবলো বুজলামনা বিনাকে ঘরে আনার জন্য সবাইকে ধরতে লাগলো। এবার আত্মিয় স্বজন মিলে আবার বসে বিনাকে তার স্বামির সংসারে আবারও পাঠিয়ে দিলো।বিনাও কোন উপায় না পেয়ে চলে এলো ওই সংসারেই।বিনা এখন ওই স্বামির ঘরেই থাকে। তবে সংসারের আর কিছু আসবাবপত্রের সাথে সেও একটা আসবাবপত্র হয়ে।তবে আসবাবপত্রের তো একটা মূল্য আছে বিনার সেটুকুও নেই।অবাঞ্চিত এক নোংরা অবহেলার জীবন।সব দিয়েও কিছুই না পাওয়ার যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে আছে সে।স্বেচ্ছামৃত্যটা যদি আত্মহত্যা না হোত তবে কবেই তার জীবন সে নিজেই শেস করে দিত এ জীবন।এ কেমন বেঁচে থাকা তার।