নবীনগরে অপহরণ মামলার বাদীকে এসিড দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় ।

0
68

নবীনগরে অপহরণ মামলার বাদীকে এসিড দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় 
..………….. সংবাদ সম্মেলনে বললেন মা……………

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে স্কুলছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে আটকিয়ে রেখে জোরপূর্বক খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, ভিডিও ধারণ করে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। কথামত কাজ না করলে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে ও তার পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ করছে অপহরণকারীরা। এসব অভিযোগ করে নিজের পরিবার নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অপহরণ হওয়া ওই ছাত্রীর মা মোসাম্মৎ শিল্পী আক্তার।
সোমবার(১৫/০৬) স্থানীয় প্রেসক্লাবে সামাজিক দুরত্ব বাজায় রেখে প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে শিল্পী আক্তার বলেন, অপহরণকারী রসুল্লাবাদ গ্রামের আঃ রউফ মিয়ার ছেলে রিয়াদুল ইসলাম শান্ত আমার নাবালিকা মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধার করতে ওই গ্রামে অভিযান চালালে শান্ত আমার মেয়েকে নিয়ে অন্যত্র লুকিয়ে রাখে। পুলিশ আমার মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে এই খবর পেয়ে রিয়াদুল ইসলাম শান্ত ও তার বড় ভাই ফারহান বর্ষণ বাবুল আমার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি ধমকি দিয়ে তাদের ইচ্ছেমতো শিখানো কথা আমার মেয়েকে দিয়ে বলাতে বাধ্য করে সেই কথার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছে। যার ফলে আমার মেয়ে ও আমার পরিবার সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি এবং তাদের কাছে আটক থাকার সময় আমার মেয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন সাদা কাগজসহ কয়েকটি খালি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে বলে আমার মেয়ে আমাকে জানিয়েছে।
তিনি বলেন, আমার মেয়েকে উদ্ধারের পর অপহরণকারীর ভাই বাবুল ও তার সহযোগীরা তাদের কথামত না বললে আমাকে ও আমার মেয়েকে মোবাইল ফোনে ও সরাসরি এসিড দিয়ে জ্বালিয়ে দিবে এবং প্রানে মেরে ফেলার ভয়ে দেখালে আমি আতংকিত হয়ে তাদের শিখানো মিথ্যা কথা বলি যে, আমি মামলা করতে চাই না, পুলিশ জোর করে মামলা করিয়েছে। আমি ওই সময় এ কথা না বললে আমার ক্ষতি হতো, বাধ্য হয়ে এ কথা বলেছি। আমার মেয়েকে খুঁজে বের করায় আমি পুলিশের কাছে কৃতজ্ঞ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অপহৃতার কুফাতো ভাই নূরে আলম সাংবাদিকদের বলেন, হুমকিদাতা শান্ত’র ভাই বাবুল একজন প্রতারক ও চাদাঁবাদসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। সুনামগঞ্জে ডিবি পুলিশ সেজেঁ চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল এবং প্রতারনা করে চতুর্থ বিয়ে করতে গিয়েও তিনি গ্রেফতার হন। তেমনি ভাবে প্রতারনার উদ্যোশ্যে আমার বোনকে অপহরণ করে নিয়ে ভয় দেখিয়ে ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে আমার ফুফির কাছে মোটা অংকের টাকা পাবে বলে দাবি করছে। এ সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি রাখছি।
উল্লেখ্য, উপজেলার বাড়িখলা গ্রামের ওই মেয়ে লাউর ফতেহপুর আর.এন.টি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। গত ৮জুন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আর বাড়ি ফিরেনি। পাড়া প্রতিবেশী ও আত্বীয় স্বজণদের বাড়িতে খোঁজাখুঁিজ করে নাবালিকা ওই ছাত্রীকে না পেয়ে তার পরিবারের ১০জুন নবীনগর থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরী করেন। পরে জানা যায় ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই বখাটে যুবক তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় এবং জোর পূর্বক ধর্ষন করে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ওই গ্রামে অভিযান চালালে রিয়াদুল ইসলাম শান্ত ওই ছাত্রীকে নিয়ে অন্যত্র স্থানে পালিয়ে যায়। গোপন সংবাদের ভিওিতে শুক্রবার(১২/০৬)রাতে নবীনগর পৌর এলাকার শেখ রাসেল স্টেডিয়ামের সামনে থেকে ওই স্কুল ছাত্রীকেসহ তাকে আটক করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে অপহরণকারীর ভাই অভিযুক্ত ফারহান বর্ষণ বাবুলকে তার মোবাইল নাম্বারে বার বার রিং দিয়ে রিসিভ না করায়। তার সাথে কথা বলা যায়নি।
নবীনগর থানার ওসি(তদন্ত)রুহুল আমিন বলেন,পুলিশ জোর করে মামলা করায়নি, ওই স্কুল ছাত্রীর মায়ের স্ব-ইচ্ছায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নবীনগর থানায়,নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে, একটি অপহরন ও ধর্ষন মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক রিয়াদুল ইসলাম শান্তকে আদালতে ও ভিকটিমকে মেডিকেল পরিার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।