দীর্ঘ চার বছরের ধারাবাহিক ঝগড়ায় নিহত চারজনের পরিবারের পাশে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের আলেম সমাজ:

0
2401

দীর্ঘ চার বছরের ধারাবাহিক ঝগড়ায় নিহত চারজনের পরিবারের পাশে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের আলেম সমাজ । চ্যানেল প্রবাহ ডেস্ক রিপোর্ট :

কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানারকান্দি, হাজিরহাটি, সাতঘরহাটি, গৌরনগর এই চারগ্রামে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক ঝগড়ায় ২০১১ সাল থেকে নিয়ে অাজ পর্যন্ত উভয় পক্ষের দুইজন করে চারজন লোক নিহত হন।

পর্যায়ক্রমেঃ
২০১১ সালে গৌরনগরের রবিউল
২০১৮ সালে গৌরনগরের জয়নাল ও দুলাল
২০২০ সালে হাজিরহাটির মোবারক।

এ যেন মানুষের বদলে মানুষ হত্যার এক অমানবিক অসুস্থ প্রতিযোগিতা!! উপজেলার অাশরাফপুর গ্রামের কৃতি সন্তান, দেশ নন্দিন ইসলামী অালোচক মুফতী অামজাদ হোসাইন অাশরাফী কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের অালেম সমাজকে সাথে নিয়ে অত্র এলাকার জন সাধারণ ও নিহতদের পরিবার পরিজনের ধারে ধারে ঘুরছেন অার অালোচনা করছেন কিভাবে এমন জগন্য প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে অাসা যায়। এবং অত্র এলাকায় চুড়ান্ত শান্তি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায়।

তারই ধারাবাহিকতায় অাজকে দ্বিতীয়বারের মতো রোজা মুখে বের হয়ে যোহর নামাজ অাদায় করেন অাবু মেম্বার সাহেবের বাড়ীর মসজিদে নামাজের পর মুসল্লীদের সামনে সংক্ষিপ্ত অালোচনা করে, মেম্বার সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ওনার মতামত ব্যাক্ত করেন।
দুপুর ৩টায় গৌরনগরের মৃত রবিউল মিয়ার বাড়ি ৩ঃ৩০ মিনিটে দুলাল মিয়ার বাড়ি, ৪টায় জয়নাল মিয়ার বাড়ী এবং বিকাল ৫টায় হাজিরহাটির নিহত মোবারক মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে তাদের ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজনকে শান্তনা দিয়ে নিহতদের অাত্মার শান্তি কামনা করে প্রত্যেকের বাড়িতে দুঅা মোনাজাত করেন।

মুফতী অামজাদ অাশরাফী বলেনঃ অামরা এক অাদমের সন্তান হিসেবে অামরা প্রত্যেকেই একে অপরের ভাই। এমন জঘন্যতম হত্যাকান্ড কোনভাবেই কাম্য নয়। অামাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে বেড়িয়ে অাসতেই হবে। অামাদের পরবর্তী প্রজন্মের নিরাপত্তার কথা চিন্ত করে হলেও ঝগড়া বিবাদ অামাদেরকে চিরতরে বর্জন করতে হবে।

পাশাপাশি অালেম সমাজের পক্ষ হতে মুফতী অামজাদ অাশরাফী ব্যাক্তিগত অর্থায়নে চাল, তৈল, অালু, অাটা, ডাল, পেঁয়াজ, খেজুর, তরমুজ, কাঠাল, কলা, বুট সাবান সহ প্রায় একমাসের খাদ্য সামগ্রী ও ইফতার সামগ্রী নিহত মোবারক মিয়ার পরিবারের হাতে তুলে দেন। এবং মোবারক মিয়ার ১০ বছরের শিশু ছেলে রবিউলের পড়াশোনার যাবতীয় খরছ বহনের ঘোষণা করেন।

এসময় সাথে উপস্থিত ছিলেন অত্র ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক উলামায়ে কেরাম।