ঝুঁকি নিচ্ছে সাহসী বাংলাদেশ

0
471

টিম বাস থেকে নেমেই উইকেটটা দেখে নিয়েছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। পরে অনুশীলন শেষে লিয়াজোঁ কর্মকর্তা মেহেরাব হোসেনকে নিয়ে রঙ্গনা হেরাথ এলেন উইকেট দেখতে। শ্রীলঙ্কান অভিজ্ঞ স্পিনার হয়তো পরখ করে দেখতে চাইলেন, যা শুনেছেন তা সত্যি কি না!

চট্টগ্রাম টেস্টে ‘স্পিন-স্পিন’ আওয়াজ উঠলেও শেষ পর্যন্ত দেখতে হয়েছে ব্যাটিং-স্বর্গ, যেখানে শুধুই ব্যাটসম্যানদের খবরদারি! মিরপুরেও তেমনটা হবে না তো? ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ড ও গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়া-সিরিজে ব্যাটসম্যানদের জন্য যে ‘মাইনফিল্ড’ তৈরি করা হয়েছিল, এবারও নাকি তেমনটিই হওয়ার সম্ভাবনা!
বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর মতে, উইকেট হবে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিনই, ‘পিচ শুষ্ক মনে হলো। সাধারণত আমরা ঢাকায় যে ধরনের উইকেট দেখতে পাই, সেটাই। ত্রিদেশীয় সিরিজেও দেখবেন বোলারদের জন্য বেশ সহায়ক ছিল। ঢাকার উইকেটে কিছু না কিছু সহায়তা থাকে বোলারদের। ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।’ শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমালের পর্যবেক্ষণও অনেকটা এক, মিরপুরের উইকেট স্পিনারদের দিকেই হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অপেক্ষায়, ‘যদি উইকেটের দিকে তাকান নিশ্চিত এ টেস্টে ফল আসবে। পিচ শুকনো দেখাল। স্পিনাররা অবশ্যই দাপট দেখাবে। দুই দলের জন্যই এটা চ্যালেঞ্জিং। চট্টগ্রামের মতো এটা হবে না।’
সেটিই যদি হয় চান্ডিমালের ‘রঙ্গনা আইয়া’র চোখজোড়া নিশ্চয়ই চকচকিয়ে উঠছে! শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক আজ সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে বোঝাচ্ছিলেন সিংহলা ভাষায় আইয়া মানে বড় ভাই। ‘মালি’ মানে ছোট ভাই। মালি (চান্ডিমাল) হিসেবে তাঁর আইয়ার (হেরাথ) কাছে নিশ্চয়ই দাবি থাকবে, সে যেন ঘূর্ণিতে ধসিয়ে দেয় বাংলাদেশের ব্যাটিং!
কিন্তু চাইলেই তো আর ধসিয়ে দেওয়া যায় না। বধ্যভূমিতে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয় সেটি বাংলাদেশ ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দেখিয়েছে। কিন্তু ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় উপমহাদেশে শ্রীলঙ্কার স্পিন আক্রমণ নিশ্চয়ই ঢের এগিয়ে। হেরাথের মতো অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনারকে সঙ্গ দেবেন দিলরুয়ান পেরেরা ও ‘চায়নাম্যান’ লক্ষ্মণ সান্দাকান।

বাংলাদেশ কি পারবে শ্রীলঙ্কার এই ঘূর্ণিত্রয়ীকে সামলাতে? মাহমুদউল্লাহ প্রতিপক্ষকে সম্মান করছেন, একই সঙ্গে সতীর্থ ব্যাটসম্যানদেরও এগিয়ে রাখছেন, ‘তাদের প্রতি সম্মান রাখতে হবে। হেরাথ খুব অভিজ্ঞ, দিলরুয়ান খুব ভালো মানের স্পিনার। তাদের সে রকম কোয়ালিটি আছে বলেও ব্যাটসম্যানদের তারা ব্যাটিং পিচেও ভোগাতে পারে। একই সঙ্গে আমাদের ব্যাটসম্যানরাও যথেষ্ট স্কিলফুল। দিনে দিনে আমাদের ব্যাটিং বিভাগ আরও ভালো হচ্ছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে মাঠে কীভাবে পরিকল্পনাগুলো প্রয়োগ করতে পারি।’
শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের যতটা পরীক্ষা নেবে, সাকিববিহীন বাংলাদেশ স্পিন বিভাগ কতটা কী করতে পারবে—এ নিয়ে ভাবনা আছে। বাংলাদেশ দলের এক স্পিনার অনুশীলন শেষে আশার কথাই শুনিয়ে গেলেন। সাত ব্যাটসম্যান, তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনারের সঙ্গে এক পেসার—চট্টগ্রামের মতো মিরপুরেও একই সমন্বয়ে নামার সম্ভাবনাই বেশি বাংলাদেশ দলের। পরিবর্তন হতে পারে শুধু এক-দুটি নাম। সাকিব আল হাসান না থাকায় অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের স্পিন বিভাগ শ্রীলঙ্কার চেয়ে একটু পিছিয়ে থাকলেও ঝুঁকিটা তারা নিচ্ছে। নিচ্ছে সাহস থেকে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো এবারও বাংলাদেশ ফল চায়। ফল মানে নিশ্চয়ই হার নয়!