গল্পঃ নামাজি বউ  , লেখিকাঃ ফেরদৌসী

0
140

গল্পঃ নামাজি বউ 🧕🤵 লেখিকাঃ ফেরদৌসী

‌💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫💫

বাসর রাত, চারদিকে নিস্তব্ধ, যেন কোন সাড়া শব্দ নেই। দুজনের কারো মুখে কোন কথা ফুটছে না। সিরাজ মনে মনে বাবার উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলেন। একটা আগাগোড়া ঢেকে রাখা বস্তার সাথে যেন তার বিয়ে দিয়েছেন।যে কিনা হাতে মোজা,পায়ে মোজা আর সমস্ত শরীর কুচকুচে কালো বোরকায় ঢেকে আমাদের বাড়িতে এসেছে।আর এখনো একহাত ঘোমটা দিয়ে মুখটাকে ঢেকে রেখেছে। এমন একটা আন কালচার,গ্ৰাম্য মেয়েকে বাবা আমার ঘাড়ে চাপালেন বুঝিনা!
,,
অন্যদিকে মুখ করে বসে বসে এসব কথাই ভাবতেছিলেন। হটাৎ পায়ে কারো স্পর্শ পেয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখলেন নতুন বউ তাকে সালাম করছে। মনে মনে ভাবে ন্যাকামির আর জায়গা পায়না।প্রচন্ড বিরক্ত নিয়ে বললো, ঠিক আছে ঠিক আছে! এরপর অনেক সময় কেটে যায় কিন্তু কারো কোন কথা ফুটে না মুখে। এদিকে ঘোমটার আড়ালে বসে সুলতানা কিছুটা বিব্রত বোধ করে, মনে মনে ভাবে, আমার সাথে উনি কথা বলেন না কেন? তাহলে কি আমাকে উনার পছন্দ হয়নি?

এরপর নিজে থেকেই সুলতানা কথা বলে,সুলতানাঃ কি হয়েছে আপনার? আমাকে একটা বারও দেখছেন না, কথাও বলছেন না? আমাকে কি আপনার পছন্দ হয়নি? আজ থেকে আপনি আমার স্বামী। আমার উপর আপনার অধিকার সবচেয়ে বেশি।

কথাগুলো শুনে বিরক্ত নিয়ে বললেন,থাক ওসব অধিকার। তুমি শুয়ে পড়ো। সকালে কথা হবে। আমি সোফায় শুয়ে পড়ছি।

সুলতানাঃ না না,তা হয়না। আপনি আমার স্বামী। আমাকে আপনার পাশে জায়গা না দেন সমস্যা নেই কিন্তু আপনি খাট ছেড়ে যাবেন না। আমি নিচে শুইতেছি আপনি খাটে ঘুমান। দয়াকরে আমাকে খোদার কাছে অপরাধী করবেন না আমাকে তাহলে জবাবদিহি করতে হবে।সুলতানার কথা শুনে অনেক টা অবাক হয়ে যায় সিরাজ। তারপরও বলে আসসা ঠিক আছে আমি খাটে শুয়ে পড়ছি।
,,

অনেক রাতে হঠাৎ কারো কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় সিরাজের। ঘুম ভেঙ্গে দেখে সুলতানা তাহাজ্জুদ নামাজ শেষে খোদার কাছে দু’হাত তুলে বলে,হে আমার আল্লাহ, আপনি আমার উপর সহায় হোন। উনি যেন আমাকে দিয়ে কোন কষ্ট না পান। আমাকে উনার হয়তো পছন্দ হয়নি। কেন তুমি আমাকেই তার জন্য স্ত্রী রূপে পাঠিয়েছো?কত কষ্ট পাচ্ছেন উনি। আমি যেন শশুর বাড়ির সকলকে ভালো রাখতে পারি। আমাকে দিয়ে যেন কারো মনে আঘাত না লাগে। কথা গুলো মনযোগ দিয়ে সিরাজ শুনলো চুপচাপ হয়ে। তারপর আবার ঘুমিয়ে পড়লো।


,,
ফজরের নামাজের আজান দেওয়া হলে, সুলতানা তার স্বামীর কানের কাছে ফিসফিস করে বললোঃ
এই যে শুনছেন, উঠুন।নামাজ আদায় করবেন।দু একবার ডাক দেওয়ার পর ঘুম ভাঙলো সিরাজের।বিরক্ত হয়ে বললেন।এই যাও তো! ঘুমাবো। তুমি পড়ো গিয়ে। হতাশ হয়ে চলে গেলেন নামাজ পড়তে।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে রান্না ঘরে চলে গেলেন,সবার জন্য নাস্তা রেডি করতে। টেবিলে সুন্দর করে সাজিয়েছেন খাবারগুলো। সুলতানার শশুর শাশুড়ি টেবিলে এসে তো অবাক।এতো এতো খাবার? তাও কিনা নতুন বউ রেডি করছে। শাশুড়ি তো ধমক দিয়ে বললো,

এটা ঠিক করোনি বউমা! তুমি নতুন বউ। কোথায় একটু রেস্ট নিবে তা না। প্রথম দিনই আমাদের সকলের জন্য খাবার রেডি করলে,তাও আবার একা একা।

সুলতানাঃ তাতে কি হয়েছে মা!আজ থেকে আপনার ছুটি।সব কাজ আমি একাই করবো। আপনি রেষ্ট নিবেন।এই বয়সে আর এতো কষ্ট করবেন না। সুলতানার শাশুড়ি কথাগুলো শুনে পরাণ জুড়িয়ে গেল। খোদার কাছে শুকরিয়া জানায়,এতো সুন্দর লক্ষী একটা বউ পাওয়ায়।
,,
একদিন দুইদিন পর হঠাৎ সুলতানা তার শাশুড়িকে জিগ্যেস করে,
মা একটা কথা জানতে পারি?
শাশুড়িঃ হুম,বলো
সুলতানাঃ মা, আপনার ছেলে কি নামায পড়ে না?? এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রেশ্নে একদম প্রস্তুত ছিলেন না মা শাহিদা খাতুন।আমতা আমতা করে বললেন, আসলে ওর অফিসে এতো কাজে চাপ? তাছাড়া আমরা ওকে অনেক বুঝিয়েছি কোন ফল হয়নি।মা, তুমি যদি পারো চেষ্টা করে দেখো ওকে নামাজটা ঠিক মত পড়াতে পারো কিনা? স্বামী নামাজ পড়ে না শুনে মনটা খারাপ হয়ে যায়। তবুও সে প্রাণপণ চেষ্টা করবে যাতে স্বামীকে নামাজ পড়াত পারে।
,,

পরদিন সকালে অফিস থেকে সিরাজ অনেক টা মাতাল অবস্থায় ফিরে আসে বাসায়।আর যিনি ধরাধরি করে নিয়ে আসে সে আর কেউ নয়,তারই পার্সোনাল সেক্রেটারী মৌরি।
মৌলি যেমন সুন্দরী তেমন স্মার্ট।যে কোন পুরুষের নজর লেগে যাবে ওকে দেখলেই। যেমন গলায় হাত দিয়ে ঢলাঢলি করে বাসায় নিয়ে এসেছে তাতে বুঝতে বাকি রইলো এই মেয়ের সাথে স্বামী সিরাজের নিঃশ্চয়ই গভীর সম্পর্ক আছে। একবার নিজের দিকে তাকালেন সুলতানা আবার আরেকবার ঐ মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ভাবলেন, আমার হাজবেন্ডের মনে হয় এমন স্মার্ট আর সুন্দরী মেয়ে পছন্দ। কিন্তু আমি যে এমন পোশাক পড়ে স্মাট সাজতে পারবোনা। তাহলে কি কোনদিন আমার স্বামীর মন পাবো না? তবুও চেষ্টা করব আল্লাহ আমার সাথে আছেন।
,,
মেয়েটি বিছানায় শুয়ে দিয়ে যাবার সময় আগাগোড়া সুলতানার দিকে তাকালেন। মুখের এমন একটা ভাব করলেন যেন এমন মেয়ে এই প্রথম দেখছেন। যাবার বেলায় একটা কথা বলে বিদায় হলেন,এই জন্যই তো সিরাজের এই অবস্থা।গ্ৰাম্য ভুত একটা। জংলি, আগাগোড়া কাপড়ের পোঁটলা।এসব দেখে দেখে ই তো সিরাজ নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে। কথাগুলো সুলতানার কানে গেলে প্রচন্ড কষ্ট পায় কিন্তু মুখে আগুনের যেন ফুলকি ঝড়ে। সুলতানা একটি কথাই বলে একসময় আল্লাহ চাইলে আপনার এই কথার জবাব দিব আগে আমার স্বামীকে সেবা করি।এই বলে সিরাজের কাছে যায় এবং পা থেকে তার জুতা খুলে দিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়।মুখ থেকে একটা অসহ্য দুর্গন্ধ আসতেছিলো। তবুও স্বামীর পাশে বসে তার স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন সুলতানা।
,,

সকাল বেলা সিরাজের ঘুম ভাঙলো, পাশেই দেখলেন হাঁটু গেড়ে নিচে বসে বসে ঘুমাচ্ছেন সুলতানা। ঘুমের মধ্যে তার মুখখানা বেশ মায়াবী লাগছিলো পরে কি ভেবে সিরাজ তোয়ালে নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে যায়। সুলতানার চোখ খুলে দেখে সিরাজ গোসল করে রেডি হচ্ছে অফিসে যেতে। আপনি সুস্থ হয়েছেন, শুকরিয়া আল্লাহর নিকট। কিন্তু সুলতানা প্রশ্ন করে কাল রাতে আপনি কি খেয়েছেন? আপনার মুখ থেকে এমন গন্ধ আসছিলো কেন?


,,
আর যে মেয়েটি আপনাকে বাসায় পৌছে দিলো,সে আপনার কি হয়? সিরাজ অনেক টা রেগে গিয়ে বলে, তোমার তার কথা জেনে কি লাভ? তার মত কখনো হতে পারবে?সে দেখতে কতটা সুন্দর আর স্মার্ট।আর তুমি??

আর শোনো, আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারে একদম নাগ গলাবে না,যার ঘরে এমন একটা আন কালচার,আন স্মার্ট বউ থাকে তার স্বামী মদ খাবে না তো কি ফিটার খাবে? মদের কথাটা শুনে ভূত দেখার মত চমকে উঠলেন সুলতানা। স্বামীর সামনে দুই হাত জোড় করে বললেন, আপনি আমাকে অপছন্দ করেন ঠিক আছে, কিন্তু আল্লাহর দোহাই আপনি আর মদ খাবেন না। আপনার পায়ে পড়ি। আপনি নামাজ পড়ুন। আল্লাহ কে ডাকুন। মৃত্যুর কথা স্মরণ করুন।কি হবে এই কালো আর সুন্দর দিয়ে? কি হবে এই ফ্যাশন আর স্মার্ট দিয়ে? সবই তো মাটিতে মিশে যাবে। শুধু ভালো আমল গুলো আপনার সাথে যাবে? সিরাজ এক ধমক দিয়ে থামিয়ে দিলেন বললেন, সকাল সকাল তোমার জ্ঞান চর্চা শুনতে ভালো লাগে না।নেহাত নতুন বউ তুমি না হলে……

না হলে কি করতেন মারতেন? আপনার ইচ্ছা হলে তাও করুন তবুও আর নামাজ ছাড়বেন না বলুন?আর মদ খাবেন না বলুন? আমাকে কথা দিন।এক ঝটকায় সরিয়ে দিয়ে চলে গেলো সিরাজ।
,,
অনেক মাস পেরিয়ে গেলো, সুলতানার মতো‌ নামাজী আর পর পরহেজগার বউ পেয়ে শশুর শাশুড়ি তো খুব খুশি। কিন্তু ছেলের ব্যবহার ভালো লাগতেছিলোনা। শুধু আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেন আল্লাহ এমন নামাজি বউকে পেয়েও সিরাজের শুকরিয়া নেই। আল্লাহ ওকে তুমি বুঝার তৌফিক দাও।
,,
একদিন মৌরিকে নিয়ে মটর সাইকেলে করে ঘুরতে বের হলেন সিরাজ। হটাৎ একটা এক্সিডেন্ট হয়। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় তার। লোকেরা ধরাধরি করে হসপিটালে নিয়ে যায় , খবর পেয়ে সুলতানা আর তার শশুর শাশুড়ি ছুটে আসে। রক্তক্ষরণ বেশি হওয়ায় রক্ত দিতে হবে ডাঃ জানালেন। কোথাও রক্ত না পাওয়ায় টেনশনে পড়ে গেলেন সিরাজের বাবা মা। সুলতানা ডঃ এর কাছে জানতে পারলেন তাঁর স্বামীর যে গ্ৰুপ সুলতানারও একই গ্ৰুপ। খোদার কাছে শুকরিয়া জানালেন এবং যতটুকু প্রয়োজন সুলতানা রক্ত দিলেন এবং হসপিটালে পর্দার সাথে থেকে স্বামীর সেবা করে তাকে সুস্থ করে তুললেন।

এদিকে একটু সুস্থ হয়ে মৌরির কি অবস্থা জানার জন্য সিরাজ ব্যাকুল হয়ে উঠলেন,বার বার ফোন দিয়েও কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না মৌরির। টেনশন করতে ছিলেন খুব কেননা, এক্সিডেন্ট করার সময় মৌরিও সাথে ছিল তাই তার কিছু হয়েছে কিনা জানাটা খুব জরুরি। এদিকে সুলতানা দিন রাত খেটে না ঘুমিয়ে স্বামী কে সুস্থ্য করে তুললেন।সেদিকে চেয়ে দেখার মতো সময় নেই সিরাজের।
,,
সাতদিন পর বাসায় ফিরলেন।ফিরেই মৌরির খোঁজে বের হলেন সিরাজ।মৌরির দরজায় গিয়ে নক করলে একজন কাজের লোক দরজা খুলে দেয়। ভিতরে ঢুকে যা দেখলেন তাতে সিরাজের হার্ট অ্যাটাক হবার কথা। দেখলেন মৌরি একটা স্মার্ট সুদর্শন পুরুষের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে আর একান্ত কাছাকাছি বসে আড্ডা দিচ্ছে। সিরাজ কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো,মৌরি তোমার কিছু হয়নি তো? তুমি ঠিক আছো তো?আর এই লোকটা কে?

মোরি বললো,হা আমি ঠিক আছি, আমার কপাল ভালো তোমার সাথে থেকে তো সেদিন এক্সিডেন্টে মরতে বসেছিলাম। ভাগ্যিস এই রাজিব আমাকে উদ্ধার করে হসপিটালে নিয়ে গেছিলো। তবে আমার গুরুতর কিছুই হয়নি।আর এই হলো রাজিব, আমার বয়ফ্রেন্ড। ওকে আমি বিয়ে করবো। কথাগুলো শুনে নিজের কানে বিশ্বাস করতে পারছিলো না সিরাজ।বললো,কি বলছো এসব? তুমি না আমাকে ভালোবাসো?
,,
হাসতে হাসতে মৌরি বললো, পাগল নাকি তুমি?এই সাতদিন হসপিটালে থেকে চেহারার কি হাল করেছো দেখোছো আয়নায়? তোমাকে এখন একটা জংলি ভূত লাগে।আর শোন তুমি কি ভেবেছিলে, ঐ গ্ৰাম্য মেয়েটার মতো দিনরাত খেটে তোমার সেবা করবো? আমার মতো এমন স্মার্ট মেয়েরা এসব কেন করবে শুনি। আমি সৌন্দর্যের পিপাসু। তোমার এখন সৌন্দর্য নেই।একটা রোগা আর হ্যাংলা মানুষের মতো লাগছে।এই রাজিবের কাছে তুমি কিছুই না। চলে যাও এখান থেকে।

প্রচন্ড রাগে দুঃখে বেরিয়ে গেলেন বাসা থেকে। সারা পথ ভাবলেন এ আমি কি করেছি,মরিচিকার পিছনে ছুটেছি,আর নিজের ঘরে এমন পরহেজগার বউ রেখে এই লোভী মেয়েটার পিছনে কতো সময় ব্যয় করেছি। ঠিক মত এক ওয়াক্ত নামাজও আদায় করিনি,সেজে গুজে স্মার্ট হয়ে মৌরিকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। তখন কতো প্রশংসা মৌরি করতো আমার।আর আজ কিনা…..

 

ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ এ আমি কি করেছি আল্লাহ তুমি আমায় মাফ করে দাও। আমার ওয়াইফ কে কখনো কোন পুরুষ ছুঁয়ে দেখেনি,তাকে কিনা আমি অবহেলা করেছি।আন স্মার্ট,গাইয়া বলে কটু কথা শুনিয়েছি। আজই বাবা মা আর সুলতানার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিবো।
,,
বাসায় গিয়ে ছল ছল চোখে বাবা মার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বললেন,আজ থেকে তোমাদের মনে কোন কষ্ট দিবো না। আর নামাজ পড়বো ঠিক মত।সিরাজের বাবা মা তো অনেক খুশি হলেন তাঁরা বললেন বাবা সুলতানা সত্যিই একজন পবিত্র মেয়ে। তুমি তাকে দিনের পর দিন অবহেলা করেছো অথচ কতো ভাগ্যগুণে তুই এমন নামাজি আর পরহেজগার বউ পেয়েছো ভেবে দেখছো? সিরাজ বলে সব দোষ আমার আমি এখনি সুলতানার কাছে যাচ্ছি।

সিরাজ ছুটে গিয়ে সুলতানাকে জড়িয়ে ধরে, স্বামীর এই প্রথম পরশে অবাক হয়ে যায় সুলতানা। সিরাজ বলে, আমি আজ থেকে তোমার সব কথা শুনবো।আর মিথ্যে মরিচিকার পিছনে ছুটবোনা। তোমাকে সত্যিই অনেক ভাগ্যগুণে পেয়েছি। এমন বউ কয়জনের মিলে। সুলতানা বললেন, এবার বুঝছেন তো?এই দুনিয়ায় একমাত্র তার সৎ আমল ছাড়া কিছুই সাথে যাবে না। শরীরের সৌন্দর্য সে তো কেবল বাহিরের চাকচিক্য। খোদার কাছে সৎ আমলই আসল। আপনি যে আপনার ভুল বুঝতে পেরেছেন সে জন্য আল্লাহর দরবারে লাখো লাখো শুকরিয়া। আল্লাহ আপনাকে আমাকে তার দিনের পথে আজীবন চলার তৌফিক দিন (আমিন)  ।সমাপ্ত।