কবিতা :রুদ্র করোটিকা । কবি তাহরান তাহের তাজ

0
422

কবিতা :রুদ্র করোটিকা ।
কবি তাহরান তাহের তাজ
………………………………………………….

মেদিনী আজ ভারাক্রান্ত
অনাদরে অনাসুখে।
দাবানলে পুরছে হৃদয়
মৃতকল্পের অভিমুখ অবিচারে।

ওরা বঞ্চিত,নিষ্পেষিত
অকুলপাথারে আবৃত দেবালয়
উদরে দু মুঠো অন্নের সন্ধানে মনে রয় সংশয়।

দারিদ্র্যের রোষানলে এ জীবনযাত্রা
পথে প্রান্তরে ভবঘুর অন্তিম সত্তা।

“হে রুদ্র করোটিকা,”হে মুছরে দেওয়া দাম্ভিকতা,
ভেঙে দাও নরপিশাচদের কালো হাত
খুলে দাও প্রাণচঞ্চল শহর।

যেথায় রবে না আত্মার আত্ম- -চিৎকার
ধর্ষিতা হবেনা রমণী পথে-প্রান্তরে
তবুও কি এ সমাজ!
দেখবে তা চেয়ে-চেয়ে??

না-না-না।
ফিরতে হবে তোমাকে
সবুজ ছায়াঘেরা রূপসী এ বাংলায়।
স্বপ্নের বারিধারায় জ্বালাবে তুমি আলো,
অভাগীদের মুছে যাবে ধূসর মন কালো।

শ্রমিকের রক্তক্ষরণে তৈরি যে রাজ-প্রাসাদ,
দর্পযুক্ত পরিচয়ে দিয়েছিস তাঁদের নিচুজাত।
সর্বশান্ত হয়ে তাকিয়ে এ ধরাতে,
নীরস মুখে প্রার্থনা করে স্রষ্টার পদাতলে।

আর কত বহিবে এ অনল?
দিনশেষে ওরাই তো তোদের শেষ সম্বল।

যে বসুন্ধরায় ফুটেছিল স্বর্গের ফুল,
আজ এই অবলীলায় শূন্যতার সমতুল।
কুটিরে নেই সুখের সন্ধান,
চারপাশটাতে শুধু আঁধার আর আঁধার।

তুুমি কি আসবেনা হে রুদ্র!!
তোমার আশার বাণীর প্রতিক্ষায়
পথ চেয়ে রয়েছে এক বৃদ্ধ।

” হে তারুণ্য

কুলষিত মুক্ত সমাজ গড়তে
যদি হয় রক্তের ক্ষরণ।
হয় হউক!তবে জেনে রেখো
এ ভূমন্ডল চিরকাল তোমাকে করবে স্মরণ।

পাপাচারকে বিনষ্ট করে দিয়ে যদি
ফিরিয়ে দিতে পারো শান্তি,
এ সমাজ তোমাকে জানাবে সালাম।
অতৃপ্ত আত্মা পাবে স্বস্তি।

আর রূপসী বাংলা
হাঁসিমাখা মুখে বলবে
দেখো-দেখো গগনের চাঁদ- তারা,
জাতি ফিরে পেয়েছে
আলোকিত এক বসুন্ধরা।