ইউক্রেনের বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার কারণ মানবীয় ত্রুটি: ইরান

0
367

ইউক্রেনের বিমানে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ার কারণ মানবীয় ত্রুটি: ইরান

নাসির মাহমুদ , ইরান , চ্যানেল প্রবাহ 

ইরানের আকাশে সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৭৬ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছে। ৮ জানুয়ারি ভোররাতে তেহরানের ইমাম খোমেনী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। কিয়েভ হয়ে কানাডামুখি বিমানটিতে ইরান ছাড়াও কানাডা, ব্রিটেন, আফগানিস্তান ও সুইডেনের যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে ১১৭ জনই ছিলেন ইরানি,যাদের অনেকেরই কানাডা ও ব্রিটেনের নাগরিকত্ব ছিল।ইরানের সশস্ত্র বাহিনী গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মানবীয় ত্রুটির কারণে শত্রুর জঙ্গিবিমান ভেবে বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে। দুঃখজনক এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারবর্গের কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।দু’দিন ধরে সশস্ত্র বাহিনী নিবিড় তদন্ত শেষে গতকাল ওই বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরাকে মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর ঘাঁটি আইন আল-আসাদে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার পর ইরানের আকাশসীমার আশপাশে মার্কিন জঙ্গিবিমানের আনাগোনা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এ সময় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারগুলোতে অসংখ্য শত্রু বিমান ধরা পড়ে। এ অবস্থায় এই ব্যবস্থা পরিচালনাকারী সৈন্যরা অত্যন্ত স্পর্শকাতরতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। এ রকম একটি সংকটময় ও স্পর্শকাতর মুহূর্তে ইউক্রেনের ৭৫২ ফ্লাইটটি ইমাম খোমেনী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আকাশে উড্ডয়ন করে এবং টার্ন নেয়ার সময় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি’র একটি সামরিক স্থাপনার আকাশে চলে আসে। রাডারে বিমানটিকে শত্রুর জঙ্গিবিমান বলে প্রতীয়মান হয় এবং মানবীয় ত্রুটির কারণে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেন্সকির সঙ্গে টেলিফোন সংলাপ করেন। ওই আলাপে তিনি বলেছেন, যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা তদন্তে দু’দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ইউক্রেন থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে পৌঁছালে দু’দেশের বিশেষজ্ঞরা যৌথ তদন্ত চালাবেন এবং বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্তও চালানো হবে।
এই বেদনাদায়ক ঘটনার জন্য অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, তার দেশ এই ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন পুরোপুরি মেনে চলবে।
টেলিফোলাপে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার দায় স্বীকারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন: এই স্পর্শকাতর সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা করা হচ্ছে তা প্রশংসনীয়।